Hot Posts

https://internationalnewseveryday.blogspot.com/search/label/International%20News%20update%20everday?&max-results=5

ট্রাম্পকে মানহানির মামলায় দেড় কোটি ডলার দিতে রাজি এবিসি নিউজ

 ট্রাম্পকে মানহানির মামলায় দেড় কোটি ডলার দিতে রাজি এবিসি নিউজ


মার্কিন গণমাধ্যম এবিসি নিউজ সম্প্রতি একটি মানহানির মামলা মীমাংসার অংশ হিসেবে সদ্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ১৫ মিলিয়ন ডলার বা দেড় কোটি ডলার দিতে সম্মত হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছিল, এবিসি'র তারকা উপস্থাপক জর্জ স্টেফানোপোলাস একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভুল ও মানহানিকর মন্তব্য করেছিলেন।




মামলার পটভূমি

চলতি বছরের ১০ মার্চ, এবিসি'র "দিস উইক" অনুষ্ঠানে জর্জ স্টেফানোপোলাস দক্ষিণ ক্যারোলিনার রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান ন্যান্সি ম্যাসকে প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি কীভাবে ট্রাম্পকে সমর্থন করেন। এই সময়ে স্টেফানোপোলাস বারবার দাবি করেন, ট্রাম্প ধর্ষণের জন্য দায়ী। যদিও ২০২৩ সালে একটি দেওয়ানি মামলায় জুরি সিদ্ধান্তে বলেছিল, ট্রাম্প যৌন হয়রানির জন্য দায়ী হলেও ধর্ষণের জন্য দায়ী নন। নিউ ইয়র্কের আইন অনুযায়ী, ধর্ষণের সংজ্ঞা কিছুটা ভিন্ন হওয়ায় এই রায় এসেছিল।

সমঝোতার শর্ত

এবিসি নিউজ একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা মামলাটি বন্ধ করার জন্য একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। এর অংশ হিসেবে:

  • ট্রাম্পের পক্ষে একটি ফাউন্ডেশন ও মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠার জন্য ১৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হবে।
  • আইনি খরচ মেটাতে ট্রাম্পকে আরও ১ মিলিয়ন ডলার প্রদান করা হবে।
  • এবিসি'র ওয়েবসাইটে ১০ মার্চের প্রতিবেদনের নিচে একটি সম্পাদকের নোট যোগ করা হবে।

নোটে উল্লেখ থাকবে:
"এবিসি নিউজ এবং জর্জ স্টেফানোপোলাস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প সম্পর্কে 'দিস উইক' অনুষ্ঠানে মিথ্যা মন্তব্য করার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।"

এছাড়া, এবিসি এই ইস্যুতে স্টেফানোপোলাসের মন্তব্যকে "অনুতাপজনক" বলে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করবে।

অতীতের মামলা ও রায়

২০১৯ সালে নিউ ইয়র্কের এক দেওয়ানি মামলায় ম্যাগাজিন কলামিস্ট ই. জিন ক্যারল অভিযোগ করেছিলেন, ট্রাম্প তাকে ১৯৯৬ সালে একটি দোকানের ড্রেসিং রুমে যৌন নির্যাতন করেছিলেন। জুরি ট্রাম্পকে যৌন হয়রানির জন্য দায়ী করলেও ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

অন্যদিকে, পৃথক একটি মামলায় মানহানিকর মন্তব্যের জন্য ট্রাম্পকে ৮৩.৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছিল।

ট্রাম্পের অন্যান্য মামলা

ট্রাম্প সম্প্রতি সিবিএস-এর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন। এর আগে, সিএনএনের বিরুদ্ধে করা একটি মামলা খারিজ হয়ে যায়, যেখানে অভিযোগ ছিল যে তাকে অ্যাডলফ হিটলারের সাথে তুলনা করা হয়েছে।

প্রতিক্রিয়া

এবিসি নিউজের মুখপাত্র বলেছেন, "আমরা খুশি যে উভয় পক্ষই আদালতের বাইরে সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরেছে।"

ট্রাম্পের এই মামলার ফলাফল মার্কিন গণমাধ্যমে একটি বড় দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।


গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

এবিসি নিউজের সঙ্গে সমঝোতার এ ঘটনাটি মার্কিন রাজনীতিতে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বনাম দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। সমর্থকদের মতে, এই মামলার মীমাংসা ট্রাম্পের জন্য একটি বিজয়, যা তার সম্মান রক্ষার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে, সমালোচকদের মতে, এটি সংবাদমাধ্যমের উপর চাপ বাড়াতে এবং বাকস্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

গণমাধ্যমের দায়িত্ব ও ভবিষ্যত প্রভাব

এটি মার্কিন গণমাধ্যমের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশেষত, বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আরও যত্নবান হওয়ার প্রয়োজনীয়তা প্রকাশিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের মামলার ফলাফল ভবিষ্যতে সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টিং পদ্ধতিকে প্রভাবিত করতে পারে। সাংবাদিকদের মানহানি এড়াতে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সীমিত করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ট্রাম্পের আইনগত লড়াইয়ের ধারাবাহিকতা

ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এটি কোনো নতুন ঘটনা নয়। তার পুরো রাজনৈতিক ক্যারিয়ারজুড়ে তিনি গণমাধ্যম ও বিরোধী রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছেন। ২০২৩ সালে সিএনএনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা খারিজ হয়ে গেলেও এবিসি নিউজের সঙ্গে এই মীমাংসা তাকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের আইনজীবীরা বলছেন, "এই সমঝোতা শুধু ট্রাম্পের নয়, বরং সবার জন্য সত্যের জয় প্রমাণ করেছে।"

সাধারণ জনগণের প্রতিক্রিয়া

জনমনে এই ঘটনাটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, ট্রাম্প তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করার জন্য এই মীমাংসাকে ব্যবহার করবেন। অন্যদিকে, কেউ কেউ মনে করেন, গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার প্রয়োজনীয়তা এবার স্পষ্ট হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পর্যালোচনা

এই ঘটনাটি ভবিষ্যতের জন্য মার্কিন আইন এবং গণমাধ্যমের নৈতিক মানদণ্ডের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ট্রাম্প প্রশাসন তার দ্বিতীয় মেয়াদে যদি শপথ গ্রহণ করে, তবে এই ঘটনাটি তার মিডিয়া নীতি এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিশেষে, এবিসি নিউজের সঙ্গে এই সমঝোতা ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ একটি আইনি জয় হলেও, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়িত্ব এবং তথ্যের যথার্থতার বিষয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে।



Post a Comment

0 Comments